মালদা জেলা পরিষদের বিজেপির সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা আনলো তৃণমূল
দি নিউজ লায়ন; মালদা জেলা পরিষদের বিজেপির সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা আনলো তৃণমূল। দলের ২৩ জন জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্যের অনাস্থা প্রস্তাবের স্বাক্ষর করা চিঠি মালদার অতিরিক্ত ডিভিশনাল কমিশনার দেবতোষ মন্ডলের কাছে জমা দেওয়া হল তৃণমূলের পক্ষ থেকে। আর এই ঘটনায় ব্যাপক সরগরম হয়ে উঠেছে মালদার রাজনৈতিক মহল। বৃহস্পতিবার দুপুরে মালদা শহরের পোল্ট্রি ফার্ম সংলগ্ন ডিভিশনাল কমিশনার অফিসে গিয়ে জেলা পরিষদের সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের এই আবেদনপত্র জমা দিয়েছে তৃণমূলের নির্বাচিত ২৩ জন সদস্য।
যদিও অনাস্থা কবে ডাকা হবে সে ব্যাপারে এখনো পরিষ্কার করে কিছু প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় নি। তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা সাংসদ মৌসুম নূর বলেন , বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌর চন্দ্র মন্ডল। কিন্তু মালদা জেলা পরিষদে তৃণমূলের দখলে রয়েছে, তা আরো একবার প্রমান হয়ে গিয়েছে। কারণ, সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিরিখে এদিন ২৩ জন সদস্য অনাস্থা প্রস্তাবের স্বাক্ষর করে ডিভিশনাল কমিশনার অফিসে জমা দিয়েছেন। আশা করছি খুব শীঘ্রই সরকারি নিয়মে অনাস্থা ডাকা হবে।
সেখানেই তৃণমূল সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমান দেখিয়ে জেলা পরিষদ দখল করবে। উল্লেখ্য, মালদা জেলা পরিষদের মোট ৩৮ টি আসন রয়েছে। যার মধ্যে গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে গাজলের একটি আসনে প্রার্থী নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সেখানে নির্বাচন হয় নি । বাকি ৩৭ টি আসনে নির্বাচন হয়েছিল। মোট ৩৭ টি আসনের মধ্যে ছটি আসনে নির্বাচিত হয়েছিল বিজেপি। কংগ্রেসের নির্বাচিত সদস্য সংখ্যা ছিল দুটি। ২৯ টি আসনে নির্বাচিত হয়েছিল তৃণমূল।
এরপর সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিরিখে বোর্ড দখল করেছিল তৃণমূল । সভাধিপতি হয়েছিলেন গৌড় চন্দ্র মন্ডল। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের সভাধিপতি গৌর চন্দ্র মন্ডল দলত্যাগ করে বিজেপিতে যোগদান করেন। তার সঙ্গে তৃণমূলের আরো কয়েকজন জন নির্বাচিত সদস্য বিজেপিতে যোগদান করে বলে দলীয় সূত্রের খবর। এদিকে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্ মুহূর্তে বিজেপির নির্বাচিত দুই সদস্য উজ্জ্বল চৌধুরী এবং সাগরিকা সাহা তৃণমূলে যোগদান করেন। মালদা জেলা পরিষদে বোর্ড দখলের ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ১৯টি আসনের প্রয়োজন ।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখিয়েই ২৩ জন নির্বাচিত সদস্যের সই করা অনাস্থা প্রস্তাবের চিঠি ডিভিশনাল কমিশনার অফিসে জমা দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব । যেখানে সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা সাংসদ মৌসুম নূর বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে মালদা জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে বেশ কয়েকজন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বিজেপিতে ফিরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তাদের তৃণমূলের যোগদানের বিষয়টি নিয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করছি । তবে জেলা পরিষদের এই জটিল পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য যারা কালপিট, তাদেরকে কোনভাবেই দলে নেওয়া হবে না একথা রাজ্য নেতৃত্ব জানিয়ে দিয়েছে ।

Post a Comment